fbpx

বিশ্বজুড়ে কমছে বায়ুদূষণের মাত্রা

বিশ্বজুড়ে কমছে বায়ুদূষণের মাত্রা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় রাস্তাঘাট ও কলকারখানায় মানুষের ব্যস্ততা কমে গেছে। ফলে কার্বন নিঃসরণ কমেছে ব্যাপক হারে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম দূষিত বায়ুর দেশ ও কার্বন নিঃসরণকারী চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বায়ুর মানে ব্যতিক্রমী উন্নতি ঘটেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে চীনের বায়ুদূষণ নাটকীয় পর্যায়ে কমে গেছে। চীনের অত্যাধিক ভাইরাস সংক্রমিত এলাকাগুলোতে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমে গেছে আশ্চর্যজনক হারে। সাধারণত কল-কারখানা ও গাড়ির ধোঁয়া থেকেই বিষাক্ত এ গ্যাস নির্গত হয়।

করোনাভাইরাস মহামারী হিসেবে আবির্ভূত হলেও বিশ্বের উপকারও হচ্ছে। কমেছে দূষণ, হ্রাস পেয়েছে পৃথিবীর কার্বন নিঃসরণ মাত্রা। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর দেশে দেশে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। চীনের অত্যাধিক ভাইরাস সংক্রমিত এলাকাগুলোয় নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমে গেছে আশ্চর্যজনক হারে।
সাধারণত কারখানা ও গাড়ির ধোঁয়া থেকেই বিষাক্ত এ গ্যাস নির্গত হয়। করোনা সংক্রমণের কারণে চীনে সিংহভাগ কলকারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পাশাপাশি বেশকিছু শহরে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ হওয়ায় এর সুপ্রভাব পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশে।

চীন, ইটালী বা ব্রিটেনের আকাশে অবিশ্বাস্য গতিতে কমছে নাট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা। আর এর ফলে দল বেঁধে ফিরে আসছে পাখির দল। সভ্যতা থেকে দূরে সরে যাওয়া নিরীহ ডলফিনের ঝাঁক ফিরে আসছে মানুষের কাছে!

ক্ষুদ্র এক ভাইরাস গোটা দুনিয়ার চিত্র পাল্টে দিচ্ছে। আমাদের মানসিকতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে সীমান্তের কাটা তার ভুলে গিয়ে গোটা পৃথিবী দাঁড়িয়েছে এক আকাশের নীচে। সবাই অজানা অচেনা প্রতিপক্ষ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে।

আমরা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের কথা জানলেও পৃথিবীর ইমিউন সিস্টেমের কথা কখনো ভাবিনি। করোনা-বিপর্যস্ত মানুষ, দফায় দফায় ঘরবন্দী থাকায় পৃথিবীর দূষণ আরো কমবে। এর ফলে কমবে ক্যানসার, কিডনী, শ্বাসযন্ত্র ও অন্যান্য দূষণজনিত রোগ। আগামীর নতুন পৃথিবীতে নতুনভাবে নামবে মানুষ, ভাঙাচোরা অর্থনীতি, থমকে যাওয়া শিল্প, আমূল বদলে যাওয়া জীবনকে নতুন করে বাঁধতে।